প্রোটিন উন্মাদনা

ভোক্তা আকর্ষণে মার্কিন রেস্তোরাঁয় নতুন কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রে চেইন রেস্তোরাঁগুলোয় চলছে প্রোটিন উন্মাদনা। এমন এক সময় এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যখন জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় অনেক ভোক্তা খরচ কমাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে চেইন রেস্তোরাঁগুলোয় চলছে প্রোটিন উন্মাদনা। এমন এক সময় এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যখন জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় অনেক ভোক্তা খরচ কমাচ্ছেন। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের রেসিপির মাধ্যমে অতিরিক্ত ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের জন্য খরচ বাড়াতে ভোক্তাদের উৎসাহিত করছে রেস্তোরাঁগুলো। খবর সিএনবিসি।

জিমপাগল তরুণ থেকে শুরু করে ওজেম্পিকের মতো স্থূলতা প্রতিরোধী জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার করছেন এমন অনেক মার্কিন এখন খাদ্য তালিকায় বেশি প্রোটিন রাখছেন। যাদের অনেকেরই লক্ষ্য পেশিবহুল শরীর তৈরি বা ধরে রাখার পাশাপাশি এটিও নিশ্চিত করা যাতে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা না লাগে। এছাড়া কিটোজেনিকের মতো প্রোটিনে গুরুত্ব দেয় না এমন ডায়েট ট্রেন্ড এখন যুক্তরাষ্ট্রে তেমন জনপ্রিয় নয়।

বাজার গবেষণা সংস্থা মিন্টেলের খাদ্য ও পানীয় বিভাগের বিশ্লেষক জুলিয়া মিলস বলেন, ‘অনেক তরুণ এখন স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আগের তুলনায় বেশি সচেতন। এমন উপায় খুঁজছেন, যা বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে। জেনারেশন আলফা, জেন জি, মিলেনিয়ালস এ প্রজন্মগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব সক্রিয়। তারা সবসময় এ বার্তা পাচ্ছে যে বেশি প্রোটিন দরকার। কারণ প্রোটিন মাংসপেশি বাড়ায় ও শক্তিশালী করে।’

গবেষণা সংস্থা ডাটাসেনশিয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন ভোক্তা পছন্দের তালিকায় উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রেখেছে, যা তিন বছর আগে ছিল ২৪ শতাংশ।

এ প্রবণতা অনুসরণ করে মুদি দোকান থেকে শুরু করে বড় ব্র্যান্ডগুলোর পণ্যে বাড়িয়েছে প্রোটিনের উপস্থিতি। প্রোটিনসমৃদ্ধ এগো ওয়াফেলস থেকে শুরু করে ক্লোই কার্দাশিয়ানের প্রোটিন পপকর্ন পর্যন্ত পণ্যগুলো এখন আগের তুলনায় বেশি অর্ডার পাচ্ছে। রেস্তোরাঁর মেনুতেও প্রোটিনপ্রীতির প্রভাব স্পষ্ট। এসব স্থানে গ্রাহকদের প্রিমিয়াম খাবার ও পানীয়ের জন্য বেশি দাম দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

গত মাসে কফি জায়ান্ট স্টারবাকস জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা ১৫ গ্রাম প্রোটিনযুক্ত কোল্ড ফোম চালু করবে। সাধারণ কোল্ড ফোম অ্যাড-অন গ্রাহকদের প্রতি পানীয়তে সাধারণত ১ ডলার ২৫ সেন্ট খরচ বাড়ে।

প্রতিদ্বন্দ্বী ডাচ ব্রোস ২০২৪ সালের শুরুতে প্রোটিন কফি চালু করেছে, যার জন্য গ্রাহকদের ১ ডলার অতিরিক্ত দিতে হয়। এ মেনু তাদের বিক্রি ও মুনাফা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ রেস্তোরাঁ মেনুতে ‘প্রোটিন’ শব্দটি উল্লেখ আছে, যা এক দশক আগে ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ডাটাসেনশিয়াল ভবিষ্যদ্বাণী করছে, ২০২৯ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি রেস্তোরাঁর মেনুতে প্রোটিন প্রাধান্য পাবে।

জুলিয়া মিলসের মতে, প্রোটিন এমন একটি খাদ্য উপাদান যা কখনই খারাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়নি। তবে ডায়েটিশিয়ান ডায়ান হান সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনি সমস্যার কারণ হতে পারে।

ফাস্ট-ক্যাজুয়াল রেস্তোরাঁগুলো তাদের মেনুতে প্রোটিন উল্লেখ করার প্রবণতায় এগিয়ে রয়েছে। তারা ডাবল প্রোটিন অপশন যোগ করেছে মেনুতে। তাছাড়া প্রোটিনের ব্যাপারে ভোক্তাদের আকৃষ্ট করতে রেস্তোরাঁগুলোর কিছু কৌশল দেখা গেছে। সুইটগ্রিন ২০২৩ সালের শেষের দিকে ‘প্রোটিন প্লেট’ চালু করেছে। এ খাবার তাদের ডিনার বিক্রি বাড়িয়েছে। স্মুদি কিং অক্টোবরে জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ প্রোটিন মেনু চালু করেছে। পান্ডা এক্সপ্রেস ও চিপোটল মেক্সিকান গ্রিল প্রোটিনকে হাইলাইট করে পুরনো মেনু নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। চিক-ফিল-এ ব্লগে তাদের হাই প্রোটিন আইটেমকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে।

ডাটাসেনশিয়ালের মতে, প্রোটিনসমৃদ্ধ নাচোস, ঘরে তৈরি প্রোটিন বার ও ডিমভিত্তিক খাবার জনপ্রিয় হচ্ছে।

আরও